২০২১ সালের ই-কমার্স সেক্টর : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

২০২১ সালের ই-কমার্স সেক্টর : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

Ecommerce News

২০২১ সালের ই-কমার্স সেক্টর

২০২১-২২ অর্থবছরের  জাতীয় বাজেটে ই-বুক ও ই-লার্নিং করমূক্ত ঘোষনা করায় ধন্যবাদ বানাচ্ছি। ই-কমার্স খাতে প্রবৃদ্ধির জন্য বর্তমানে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার এবং ভ্যাট ও ট্যাক্সের ক্ষেত্রে কিছু অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান করা প্রয়োজন। তাহলে উক্ত  এই খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে এবং ব্যাপক শিক্ষিত কর্মসংস্থান হবে।

ই-কমার্স: সাধারণ তথ্য

১।  ইলেকট্রনিক্স মাধ্যম ব্যবহার করে যেকোনো ব্যবসাই ই-কমার্স ব্যবসা হতে পারে।

২। ই-কমার্স বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন: বিটুবি, বিটুসি, সিটুবি, বিটুজি, জিটুসি, জিটুবি

৩। প্লাটফর্ম অনুসারে ই-কমার্স ৪ ধরনের হতে পারে

ক) মার্কেটপ্লেস: একটা বড়ো প্লাটফর্মে হাজার হাজার বিক্রেতা তাদের পণ্য বিক্রি করে। যেমন দারাজ, আজকের ডিল।

খ) অনলাইন শপ: একটি ই-কমার্ষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেরা বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ব্রান্ডের পণ্য বিক্রি করে।

গ) এক্সক্লুসিভ অনলাইন শপ: শুধুমাত্র নিজেদের উৎপাদিত পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে। যেমন অথবা ডট কম, ওয়ালটন।

ঘ) সোসালমিডিয়া ভিত্তিক ব্যবসা: যারা শুধুমাত্র ফেসবুক পেইজ দিয়ে ব্যবসা করে থাকে।

৪। সেবার ধরণ অনুসারে ই-কমার্স বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।

ক)  নিত্যপণ্য বিক্রি (বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়)

খ) সেবা ফ্লাটফর্ম ( বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হয়)

গ) সফট পণ্য ও অবিতরণযোগ্য পণ্য (ননডেলিভারিবল প্রডাক্ট)

সাধারণ তথ্যবলী: বাংলাদেশের ই-কমার্স

  • বাংলাদেশে ই-কমার্স শুরু হয় ১৯৯৯ সাল থেকে।
  • পূর্নাঙ্গ ও পেশাদার ই-কমার্স এর সূচনা ২০০৯ সাল থেকে
  • ই-কমার্স এর বিকাশ শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে
  • ই-কমার্স এসোসিয়েশন যাত্রা শুরু করে ২০১৪ সালে
  • ই-কমার্স এসোসিয়েশন স্বীকৃতি পায় ২০১৫ সালে
  • ই-কমার্স উদ্যোগ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ২০১৬ সাল থেকে
  • সরকার ডিজিটাল কমার্স পলিসি ঘোষণা করে ২০১৮ সালে
  • ই-কমার্সের ব্যাপক বিজ্ঞাপন শুরু হয় ২০১৯ সালে
  • ই-কমার্সের ব্যাপক প্রসার ঘটে ২০২০ সালে
  • ই-ক্যাব ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরষ্কার পায় ২০২০ সালে
  • ভ্যাট ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কারণে ই-ক্যাবের কিছু সদস্য সদস্যপদ প্রত্যাহারের আবেদন করেছে।

 

বাংলাদেশের ই-কমার্স এর কিছু ফ্যাক্ট

  • ই-কমার্স সেক্টর একটি উদীয়মান খাত হলেও এখনো লাভ জনক হয়ে উঠেনি। এদের বেশীরভাগই দেশীয় উদ্যোক্তা যারা এইসেবাখাতকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এবং সেবামূল্যের উপর ৫% ভ্যাট দিয়ে আসছে।
  • এখাতে প্রায় ৯৫% শতাংশ ক্ষুদ্র ও তরুন উদ্যোক্তা। আবার অনেকে ঘরে বসে ব্যবসা করে থাকে। আপাতত এই খাতের বহু অপ্রাতিষ্ঠানিক ও অনিবন্ধিত উদ্যোক্তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে উৎসাহিত করা উচিত। এরা অনেকে ভ্যাট ট্যাক্স সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেনা। তাই তাদেরকে প্রথমে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়া উচিত।
  • আমরা জানি যে, এখনো এই খাতের উদ্যোক্তারা ট্রেড লাইসেন্সে স্বীকৃতি পায়নি। তারা অন্য বিভিন্ন কাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে থাকে। ট্রেড লাইসেন্স এ্যাক্ট ২০১৬ সংশোধন করা প্রয়োজন। সেখানে ট্রেড লাইসেন্স ক্যাটাগরিতে বৃত্তি বা পেশা হিসেবে ‘‘ই-কমার্স’’ সংযোজন প্রয়োজন।
  • এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত দোকানের সাথে অনলাইন শপ বা ই-কমার্সে ভ্যাট ট্যাক্স আরোপের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। সেটাও দেখা দরকার।

ই-কমার্সের বর্তমান অবস্থা

১। ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা ১৬০০ জন

২। দেশে মোট ই-কমার্সের সংখ্যা: ২৫০০ জন

৩। দেশে ফেসবুক পেইজের সংখ্যা ৫ লাখ

৪। একটিভ ফেসবুক পেইজ: ২ লাখ

৫। নারী উদ্যোক্তা ই-ক্যাব মেম্বার ২৭%

৬। নারী উদ্যোক্তা ফেসবুক পেইজ ৪৪%

৭। বর্তমানে দৈনিক ডেলিভারী সংখ্যা ২ লাখ

৮। বর্তমান বাস্কেটভ্যালু ২২শ টাকা

৯। বর্তমান লাভজনক কোম্পনীর সংখ্যা ০টি। (একটিও নয়)

১০। বড় প্রতিষ্ঠান ১% মাঝারী প্রতিষ্ঠান ৪%। ছোট প্রতিষ্ঠান ৯৫%

১১। ই-কমার্সখাতে ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩৫%

১২। ই-ক্যাবের সদস্যদের মধ্যে সদস্যপদ নবায়নের হার ৪০%

১৩। ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি বিগত বছরসমূহে ২৫%

১৪। ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি বিগত বছর ৫০%

১৫। ক্রস বর্ডার ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি ৭৪%

১৬। মোট জনসংখ্যার ৪% লোক মাত্র অনলাইনে কেনাকাটা করে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট, স্মার্টফোনের ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য উন্নয়ন চিন্তা করলে ৭০% লোকই অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারে। এবং বর্তমানসময়ে শুধু শহরকেন্দ্রীক ক্রেতাদের একটা অংশ অনলাইনে কেনাকাটা করলেও এই হার ২০% এর বেশী হওয়ার কথা।